কালো মেঘে ঢেকে গেছে আকাশ। হঠাৎ আলোকিত হয়ে উঠল চারপাশ, এরপরই শোনা গেল মেঘের বিকট গর্জন। বর্ষাকালে এমন দৃশ্য বেশ পরিচিত। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বজ্রপাতের সময় আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় কেন? আর আলোর ঝলক দেখার পরেই কেন শোনা যায় বজ্রের শব্দ?

এর পেছনে রয়েছে বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক আধানের সৃষ্টি এবং আলো ও শব্দের গতির পার্থক্য।

বজ্রঝড়ের মেঘের ভেতরে জলকণা, বরফের কণা ও শিলাখণ্ডের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর ফলে বৈদ্যুতিক আধান আলাদা হয়ে মেঘের বিভিন্ন অংশে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধান জমা হয়।

একপর্যায়ে এসব আধানের মধ্যে বিভবের পার্থক্য অনেক বেড়ে যায়। তখন বাতাসের নিরোধক ক্ষমতা ভেঙে বৈদ্যুতিক স্রাব ঘটে। মেঘের ভেতরে, এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে অথবা মেঘ থেকে মাটিতে এই স্রাব হতে পারে। এর ফলে বিপুল শক্তি আলো ও তাপ হিসেবে নির্গত হয়। আমরা আকাশে যে উজ্জ্বল ঝলক দেখি, সেটিই বজ্রপাতের আলো।

বিদ্যুৎ স্রাবের সময় আশপাশের বাতাস অত্যন্ত দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয়। এতে শক্তিশালী চাপের তরঙ্গ তৈরি হয়, যা শব্দ হিসেবে আমাদের কানে পৌঁছায়। এই শব্দই বজ্রের গর্জন।

আলোর গতি শব্দের তুলনায় অনেক বেশি। তাই বিদ্যুতের ঝলক আগে দেখা যায়, আর বজ্রের শব্দ শোনা যায় কিছুক্ষণ পরে।

বিদ্যুতের ঝলক দেখার পর শব্দ শুনতে যত বেশি সময় লাগবে, বজ্রপাতের স্থান সাধারণত তত দূরে হবে। আনুমানিক প্রতি তিন সেকেন্ডের ব্যবধানকে এক কিলোমিটার দূরত্ব ধরে হিসাব করা যায়।

বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও জলাশয় থেকে দূরে থাকুন। নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পাকা ভবন বা বন্ধ গাড়িতে অবস্থান করুন। শেষ বজ্রের শব্দ শোনার পরও অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা উচিত।

বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক কারণ জানা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এ সময় সতর্কতা অবলম্বন করাও জীবন রক্ষায় জরুরি।