বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা শুরু করতে পারেন একের পর এক তদন্ত। আটকে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগ। এমনকি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারেন তারা। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে?
আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এতে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের।
তবে ডেমোক্র্যাটরা একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে কংগ্রেসে ট্রাম্পের দলীয় সমর্থন কমে যাবে। এতে প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তলব করতে পারবেন এবং সরকারি নথিপত্র চেয়ে পাঠাতে পারবেন।
ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের ব্যবসায়িক লেনদেন খতিয়ে দেখতে আগ্রহী ডেমোক্র্যাট নেতারা।
এ ছাড়া জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হতে পারে। এসব নথির কিছু অংশ প্রকাশ না করা এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশের বিষয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন তারা।
পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা খাতের অর্থ ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও তদন্তের আগ্রহ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। এ বিষয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো।
অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত ও কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এসব নিয়োগ আটকে দিতে বা বিলম্বিত করতে পারবেন।
পাশাপাশি আইন প্রণয়ন ও সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে হোয়াইট হাউজকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। দলটির প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
তবে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলেই প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হয় না। ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
এর আগে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয় ডেমোক্র্যাটরা। এরপর ট্রাম্পের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, রাশিয়া-সংক্রান্ত তদন্ত এবং স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান শুরু হয়।
২০১৯ সালে ইউক্রেনকে ব্যবহার করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে প্রথমবার অভিশংসিত হন ট্রাম্প। এরপর ২০২১ সালে ক্যাপিটল ভবনে হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হন তিনি। তবে দুইবারই সিনেটে খালাস পান ট্রাম্প।
এবারও ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, জবাবদিহি ও নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। ফলে ক্ষমতার বাকি দুই বছর আইন প্রণয়ন, সরকারি নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে।

মন্তব্য করুন