প্রায় এক মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন চলছে। গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়ে উঠেছে। কোথাও কারখানায় ভাঙচুর, কোথাও অগ্নিসংযোগ, এমনকি ককটেল ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, যেসব কারখানায় বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, সেগুলোতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। এতে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ, আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই চাপে রয়েছেন উদ্যোক্তারা। এর মধ্যে সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাই বোর্ডকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের বাইরে তৃতীয় পক্ষের উসকানি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার আশঙ্কা, অস্থিরতা চলতে থাকলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে পোশাক তৈরির অর্ডার সরিয়ে নিতে পারেন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে সরকারি উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় উদ্বেগ কাটছে না পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের।

মন্তব্য করুন