যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার দাবি, ইরান ইস্যুতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি ভোটারদের সমর্থন রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর পেছনে ইরানের বিষয়টি কিছুটা দায়ী। তবে মানুষ এটাও বুঝেছে, ইরানের ক্ষেত্রে আমি যা করেছি, তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এমনকি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও বড় জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।

নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা এমন কিছু আইন প্রস্তাব করবে, যেগুলো তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সেগুলোতে তিনি ভেটো দেবেন। তবে কয়েক মাস পর দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে টেক্সাস, ওহাইও, আইওয়া ও সাউথ ক্যারোলিনার মতো অঙ্গরাজ্য। এসব জায়গায় রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান ভেঙে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প দুই ডজনের বেশি জনসভায় অংশ নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এমনকি ভোটারদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ব্যালট পেপারে তার নামও রয়েছে—এমনটা মনে করতে।

কিন্তু ফলাফল বিপরীত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্পের এই পরাজয় আগামী দিনে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।