https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী শাকিরার পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উৎসব।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয় নৃত্য, সংগীত এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে। স্টেডিয়ামের মাঝখানে বিশাল স্বর্ণালি বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিকৃতি ঘিরে শতাধিক শিল্পীর পরিবেশনায় ফুটে ওঠে প্রাচীন আজতেক সভ্যতার গৌরবময় ইতিহাস। অনুষ্ঠানের শুরুতে মেক্সিকান সংগীতশিল্পী লিলা ডাউনস বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানান।
ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়াম এবার বিশ্বকাপ উদ্বোধনের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা এই স্টেডিয়ামই প্রথমবারের মতো তৃতীয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনের সাক্ষী হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘মানা’, ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওশান, মেক্সিকান সংগীতদল ‘লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেস’ এবং কলম্বিয়ার তারকা জে বালভিন পারফর্ম করেন। তবে দর্শকদের সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা যায় বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান গায়িকা শাকিরার মঞ্চে আগমনের পর।
হলুদ, বেগুনি ও সাদা পোশাকে মঞ্চে উঠে শাকিরা তাঁর জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। নাইজেরিয়ার সংগীতশিল্পী বার্না বয়ও তার সঙ্গে অংশ নেন। শাকিরার পরিবেশনায় পুরো স্টেডিয়াম উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। ২০১০ বিশ্বকাপের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেওয়া এই তারকার উপস্থিতি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের পতাকা বহন করে প্রতিনিধিরা মাঠে প্রবেশ করেন। প্রতিটি দেশের নাম ঘোষণা করা হলে দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে গ্যালারি। পরে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শনের সময় প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের গর্জনে কেঁপে ওঠে আজতেকা স্টেডিয়াম।
স্টেডিয়ামের বাইরে এবং মেক্সিকো সিটির বিভিন্ন ফ্যান জোনেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। হাজারো ফুটবলপ্রেমী নাচ, গান ও উল্লাসে বিশ্বকাপের সূচনা উদযাপন করেন। যদিও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছু স্থানে দর্শকদের ভোগান্তির খবরও পাওয়া গেছে।
উদ্বোধনী আয়োজন শেষে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ৪৮ দলের ফুটবল বিশ্বকাপ।