প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেটে পরিণত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের এমএজি ওসমানী গেটের সামনে বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে সরকার ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমান করব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার বিবেচনায় অর্জন করা কঠিন। তাঁর মতে, এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে বাজেট ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে এবং সরকারকে দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হবে।
তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রায় ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা দেশের অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইফের ভাষ্য, বাজেটে বড় আকারের ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকলেও এর অর্থায়নের ভিত্তি দুর্বল। অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা ব্যাংকিং খাতে চাপ সৃষ্টি করবে, যার প্রভাব বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের কথা বললেও ব্যাংকিং খাত সংস্কার, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা উপস্থাপন করেননি।
নাহিদ ইসলামের মতে, ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। বিশেষ করে আর্থিক খাতের সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আহরণ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেওয়া।