ছবি: -সংগৃহীত
৩২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছে বিশ্বকাপের আসর। সেই মঞ্চেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল—হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হচ্ছে তাদের অভিযান।
তবে বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার আগেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি সেলেসাওরা। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান সময়ে দারুণ ছন্দে থাকা মরক্কো।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল ষষ্ঠ এবং মরক্কো অষ্টম স্থানে থাকায় পরিসংখ্যান বলছে, শুরুতেই সমান শক্তির দুই দলের লড়াই অপেক্ষা করছে।
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে তুলনামূলকভাবে সংগ্রাম করে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্সগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই অস্বস্তিকর প্রেক্ষাপটেই টুর্নামেন্ট শুরু করতে হচ্ছে দলটিকে।
নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে থাকা ব্রাজিল স্কোয়াডে তারকা উপস্থিতি থাকলেও দলীয় ভারসাম্য ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে নেইমারের ফিটনেস ও ধারাবাহিক উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা শিবিরে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে মরক্কো এখন আর কেবল ‘আন্ডারডগ’ নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। বাছাইপর্বে শতভাগ জয় এবং সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের ধারাবাহিকতা তাদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিচ্ছে।
গ্রুপে স্কটল্যান্ড ও হাইতির মতো দল থাকলেও, কাগজে-কলমে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে মরক্কোকেই। ফলে ব্রাজিলের জন্য প্রথম ম্যাচই হতে পারে টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সাধারণত চাপ ও কৌশলগত সতর্কতার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। ব্রাজিলও তাই নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ ও সতর্ক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে চাইবে। অন্যদিকে মরক্কো সুযোগ খুঁজবে প্রতিপক্ষের সামান্য ভুলকে কাজে লাগানোর।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর ম্যাচেই এক উচ্চমানের কৌশলগত ও মানসিক লড়াইয়ের অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব।