ঢাকা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম

বেনজীর আহমেদকে কি দেশে ফেরানো সম্ভব? কী বলছে বাংলাদেশ-আমিরাত চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬   ৪১ বার পঠিত
বেনজীর আহমেদকে কি দেশে ফেরানো সম্ভব? কী বলছে বাংলাদেশ-আমিরাত চুক্তি

বেনজীর আহমেদ  ছবি: -সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশে ফেরাতে কত সময় লাগতে পারে এবং কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে পলাতক ছিলেন বেনজীর আহমেদ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে লাল সতর্কতা জারি করা হয়। পরে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বলে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে তার গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করেছে। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে রয়েছেন এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় তাকে গ্রেফতারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার ফলেই তাকে দুবাই থেকে আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দুই হাজার চৌদ্দ সালে অপরাধী প্রত্যর্পণ এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থানান্তর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় এক দেশে অপরাধ করে অন্য দেশে পালিয়ে গেলে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ফেরত চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চুক্তি থাকলেই কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হস্তান্তর করা হয় না। সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও কর্তৃপক্ষ অভিযোগ, প্রমাণ এবং আইনি শর্তগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রথমে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করতে হবে। এরপর আমিরাতের আদালত অভিযোগ ও নথিপত্র যাচাই করবে। দুর্নীতি ও অর্থপাচার উভয় দেশেই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আইনি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেনজীর আহমেদ চাইলে আদালতে আপত্তি বা আপিল করতে পারবেন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

যদি কোনো আইনি আপত্তি না আসে এবং আমিরাত দ্রুত সহযোগিতা করে, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে আইনি লড়াই শুরু হলে পুরো প্রক্রিয়া এক থেকে দুই বছর বা তারও বেশি সময় নিতে পারে।

এর আগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে একাধিক পলাতক আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আপিলের কারণে প্রত্যর্পণ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকার নজিরও রয়েছে।

কার্যকর দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সতর্কতা জারি থাকায় বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। এখন তার দেশে ফেরার বিষয়টি মূলত আমিরাতের আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

September 2026
SMTWTFS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930