https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ওমান উপসাগরে ইরানের একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হামলার জবাবে ট্যাংকারটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। হামলার পর এম/টি কায়লো নামের একটি ট্যাংকার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওমান উপসাগরে ডুবে যায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ইউনিট সেন্টকম ট্যাংকারটি ডুবে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটি ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সেন্টকম দাবি করেছে, মার্কিন সেনাদের ‘পেশাদারিত্ব ও নিখুঁততার’ কারণে কায়লো ডুবে গেছে। একই সঙ্গে ট্যাংকারটিকে ইরানের ডুবে যাওয়া নৌযানগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে তারা।
মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবও দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অনুমতিবিহীন রুটে চলাচলকারী আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়। টানা প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। বরং সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।
ইরানের নৌবাহিনীকে প্রায় অকার্যকর করে দেওয়ার দাবি আগেই জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাকে সেই সামরিক চাপেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর থাকায় সংঘাত দ্রুত থামার বদলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতির দিকে যাচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।