ঢাকা
২৯ আগস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালি খোলা থেকে অবরোধ প্রত্যাহার—কী কী থাকছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে?

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬   ২০ বার পঠিত
হরমুজ প্রণালি খোলা থেকে অবরোধ প্রত্যাহার—কী কী থাকছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে?

ছবি: -সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে চুক্তির এসব বিষয় এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার ভোরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকে মোট ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি এবং ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দর ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং ইরানের ব্যবস্থাপনায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। এই প্রণালি দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কার্যত অচল হয়ে ছিল।

প্রস্তাবিত সমঝোতায় ইরানের তেল ও জ্বালানি পণ্যের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথাও রয়েছে। একই সঙ্গে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় অংশ নেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, জব্দ করা ইরানের তহবিলের একটি অংশ ছাড়, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া ছাড়া চূড়ান্ত সমঝোতা আলোচনা শুরু হবে না।

এ ছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তেল পরিবহন আবার স্বাভাবিক হবে এবং এই চুক্তি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনবে।