মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে অথবা ভবিষ্যৎ সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলে প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে অনুমোদিত হয়।
এর আগে চলতি মাসে প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল।
তবে প্রস্তাবটির কোনো বাধ্যতামূলক আইনি কার্যকারিতা নেই। এটি মূলত ইরান ইস্যুতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ও উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত পঞ্চম মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবটি পাস হলো। এ সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও কৌশল নিয়ে রিপাবলিকান দলের ভেতরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কংগ্রেসের উভয় কক্ষ কোনো প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযান বন্ধ বা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব অনুমোদন করল।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লরা ব্লুমেনফেল্ড বলেন, প্রস্তাবটির আইনি শক্তি না থাকলেও এটি হোয়াইট হাউসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। তার ভাষায়, এটি সরাসরি বাধা নয়, বরং প্রশাসনের প্রতি একটি সতর্ক সংকেত।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। সিনেটের ভোটের ফলাফল সেই মনোভাবের প্রতিফলন বলেও মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল, লিসা মুরকোভস্কি, সুসান কলিন্স ও বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান নিজ দলের একমাত্র সদস্য হিসেবে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর বর্তমানে এমন কোনো সক্রিয় শত্রুতাপূর্ণ পরিস্থিতি নেই, যার কারণে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের প্রশ্ন সামনে আসে।
এদিকে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ব্যয় মেটাতে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ চেয়েছে।
মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে হলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ফলে ওই সময়সীমার গণনা নতুন করে শুরু হয়েছে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন