রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে টানা আট দিন ধরে চলছে সড়ক অবরোধ। এতে ব্যাহত হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ। পর্যটক না থাকায় বন্ধের মুখে পর্যটননির্ভর ব্যবসা, আয় হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবহনশ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

সাজেকগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাটে পর্যটকদের আনাগোনা নেই। প্রতিদিন সাজেকের উদ্দেশে ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত বলে জানিয়েছেন সাজেক পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. আরিফ। অবরোধের কারণে এসব যানবাহন বন্ধ থাকায় কয়েকশ পরিবহনশ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য যানবাহন সমিতির নেতা আয়ুস কান্তি চাকমা বলেন, সাজেক-দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিকেরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় অবরোধ শিথিল বা স্থগিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এবং ওষুধের মজুত ফুরিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এক মুদি দোকানির ভাষ্য, সাধারণত ১৫ দিনের পণ্য মজুত রাখা হলেও এখন দোকানের মালামাল শেষ হয়ে গেছে। নতুন পণ্য আনারও সুযোগ নেই। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি চিকিৎসা ও রোগী পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

পাঁচ দফা দাবিতে চলা অবরোধ নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর বাঘাইহাটের উজোবাজারে দুই জেলার সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

আন্দোলনকারীদের নেতা বাবুধন চাকমার অভিযোগ, পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠার পর স্থানীয় পাহাড়িরা ভূমি হারিয়েছেন। তাঁর দাবি, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র চালু রাখার প্রশ্ন আসে না।

অবরোধের কারণে একদিকে পর্যটন ও পরিবহন খাতের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন এবং খাদ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।