https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
২০১৬ সালের ২৬ জুন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে ভেঙে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই রাতেই কোটি ভক্তকে স্তব্ধ করে দিয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। টানা তিনটি আন্তর্জাতিক ফাইনালে পরাজয়ের হতাশায় মনে হয়েছিল, আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার পথচলা বুঝি সেখানেই শেষ।
কিন্তু এক দশক পর একই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই লেখা হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের গল্প। বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া সেই মেসিই এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সফল অধিনায়কদের একজন।
কোপা আমেরিকার সেই পরাজয়ের পর আবেগঘন কণ্ঠে মেসি বলেছিলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে তার পথচলা শেষ। তবে মাত্র দুই মাস পরই সিদ্ধান্ত বদলে আবারও জাতীয় দলে ফেরেন তিনি। এরপরও শুরুতে সাফল্য আসেনি। ২০১৮ বিশ্বকাপ ও ২০১৯ কোপা আমেরিকায় শিরোপার দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা।
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে লিওনেল স্কালোনির দায়িত্ব নেওয়ার পর। নতুন প্রজন্মের দল গড়ে তুলে তিনি মেসিকে কেন্দ্র করেই আর্জেন্টিনার নতুন যুগের সূচনা করেন। সেই যাত্রার প্রথম বড় সাফল্য আসে ২০২১ সালে, যখন মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা।
এরপর ২০২২ সালে ওয়েম্বলিতে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জয়ের পর বিশ্বকাপে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামে আলবিসেলেস্তেরা। সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত হার সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়িয়ে কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় দলটি। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলেন মেসি, পূরণ হয় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
সাফল্যের সেই ধারা অব্যাহত থাকে ২০২৪ কোপা আমেরিকাতেও। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে নিজের ক্যারিয়ারের আরেকটি স্বর্ণালি অধ্যায় লিখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। এর মধ্য দিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ২০১ ম্যাচে ১২২ গোল করেছেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ আসর। একসময় যে সিদ্ধান্ত তাকে জাতীয় দল থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারত, সেই অবসর ভেঙে ফেরার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বদলে দিয়েছে তার পুরো ক্যারিয়ার।
দশ বছর আগে যে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চোখের জল ফেলেছিলেন, আজ সেই দেশেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে দাঁড়িয়ে আছেন লিওনেল মেসি। বিদায়ের ঘোষণা থেকে বিশ্বজয়ের মুকুট—এই এক দশকের যাত্রা শুধু একজন ফুটবলারের নয়, আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক রূপকথাগুলোর একটি।