https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের দায় নিয়ে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের (এসএএফএফ) সভাপতি ইয়াসের আল-মিসেহাল পদত্যাগ করেছেন। গ্রুপ পর্ব থেকেই দলের বিদায়ের পর সোমবার (২৯ জুন) তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন।
এর মধ্য দিয়ে সৌদি ফুটবলের শীর্ষ প্রশাসনে প্রায় সাত বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে আল-মিসেহাল বলেন, বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ফলাফল সৌদি ফুটবল এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এ ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় তিনি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “জাতীয় দলের বিশ্বকাপ অভিযান আমাদের লক্ষ্য ও সমর্থকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। এই ব্যর্থতার পূর্ণ দায়িত্ব আমি গ্রহণ করছি। সৌদি ফুটবলের নতুন যাত্রার স্বার্থে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের জন্য শিগগিরই মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিদায়ী বার্তায় তিনি সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, ক্রীড়ামন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন তুর্কি আল-ফয়সাল এবং ফেডারেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে হারে দলটি। শেষ ম্যাচে অভিষিক্ত কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় পেলেই নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ ছিল। কিন্তু গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় গ্রিন ফ্যালকনস। পুরো টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা।
এটি ছিল বিশ্বকাপে সৌদি আরবের টানা তৃতীয় গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। সাতবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৯৯৪ সালের আসরে একবারই শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে পেরেছিল দলটি।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর থেকেই সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। সাবেক খেলোয়াড়, বিশ্লেষক ও সমর্থকদের অনেকে নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানান। সাবেক আল-হিলাল সভাপতি প্রিন্স আবদুল রহমান বিন মুসাইদ বলেন, ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই নতুন জাতীয় দল গঠনের কাজ শুরু করা উচিত।
সমালোচনার অন্যতম কারণ ছিল বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে হার্ভে রেনারের পরিবর্তে জর্জিওস ডোনিসকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। পাশাপাশি সৌদি প্রো লিগে বিদেশি খেলোয়াড়ের আধিক্যের কারণে স্থানীয় তরুণ ফুটবলারদের পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
আগামী বছর নিজেদের মাটিতে এশিয়ান কাপ আয়োজন করবে সৌদি আরব। এরপর ২০৩৪ সালে দেশটি আয়োজন করবে ফিফা বিশ্বকাপ। এই দুই বড় আসরকে সামনে রেখে সৌদি ফুটবলে ব্যাপক সংস্কারের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও আল-মিসেহাল জানিয়েছেন, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি অন্য ভূমিকায় সৌদি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাবেন।