https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিশ্ববাজারে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ব্যাপক অস্থিরতার পর বছরের দ্বিতীয় ভাগে এসে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে, যা স্বস্তি দিচ্ছে ক্রেতাদের। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা সুদের হার-সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন হলে সোনার দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) জানায়, চলতি বছরের শুরুতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু জুনের শেষ দিকে তা নেমে আসে ৪ হাজার ডলারের নিচে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় সাত শতাংশ কমেছে।
ডব্লিউজিসির মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়া, মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমে আসা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাবেই সোনার বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের বাকি সময়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ১০০ ডলারের আশপাশে, প্রায় ৫ শতাংশ ওঠানামার মধ্যে থাকতে পারে।
রেকর্ড দামের পর এই সংশোধনের ফলে অনেক ক্রেতা আবার বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের অস্থিরতা পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং নতুন কোনো বৈশ্বিক ঘটনার প্রভাব পড়লে দামের গতিপথ দ্রুত বদলে যেতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা, নতুন কোনো ভূরাজনৈতিক সংঘাত বা মার্কিন সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত মিললে সোনার দাম আবার প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।
অতীতের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সোনার দাম ১০ শতাংশের বেশি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বড় পরিসরে সোনা কেনা শুরু করে। ফলে অতিরিক্ত দরপতনের সুযোগ সাধারণত সীমিত হয়ে যায়।
এছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারও সোনার দামের অন্যতম নিয়ামক। সুদের হার বাড়লে সাধারণত সোনার দাম কমে, আর হার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হলে সোনার বাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লেনদেন সময়ে সোনার দাম কমলেও এশিয়ার বাজারে চাহিদা বাড়ার কারণে সেই পতন অনেকটাই সামাল দেওয়া গেছে। কম দামে সোনা কিনতে এশিয়ার বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে সোনার চাহিদা বরাবরই বেশি থাকে।
একই সঙ্গে ২০২২ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক হাজার টন সোনা কিনে আসছে। চলতি বছরও সেই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সোনার দামের জন্য সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডব্লিউজিসির মূল্যায়ন অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বড় কোনো বৈশ্বিক সংকট বা সুদের হারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হলে সোনার দাম বর্তমান সীমার মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে। ফলে যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য বর্তমান সময়টি তুলনামূলকভাবে অনুকূল সুযোগ হতে পারে। তবে বাজারের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে, তাই বিনিয়োগের আগে সর্বশেষ মূল্য ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।