https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে ধনকুবেরের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে সেই সঙ্গে আরও স্পষ্ট হচ্ছে সম্পদের বৈষম্য। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএসের সর্বশেষ গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নতুন করে মিলিয়নেয়ার বা ধনকুবেরের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। একই সময়ে সম্পদের কেন্দ্রীভবনও বেড়েছে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়।
এ নিয়ে ১৭তমবারের মতো প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বের ২১৮টি দেশের সম্পদ সৃষ্টি ও বণ্টনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো বৈশ্বিক ব্যক্তিগত সম্পদ বেড়েছে। বছরে মোট ব্যক্তিগত সম্পদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগের দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সহপ্রধান ইকবাল খানের মতে, অর্থনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিভিন্ন বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক এমন মানুষের সংখ্যা এক বছরে প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন নতুন ধনকুবের হয়েছেন। নতুন এই ধনীদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিবিদ সল এসলেকের মতে, মধ্যবিত্ত ও ধনীদের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদের বণ্টন তুলনামূলকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গড় পারিবারিক সম্পদ মধ্যক পারিবারিক সম্পদের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। ফলে সেখানে সম্পদের বৈষম্য অনেক বেশি স্পষ্ট।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন ধনকুবেরদের বড় অংশই সম্পদের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। বিশেষ করে নিজস্ব আবাসনের দাম বাড়ায় অনেকের মোট সম্পদের মূল্য ১০ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তাদের হাতে অতিরিক্ত নগদ অর্থ এসেছে বা ব্যয় করার সক্ষমতা বেড়েছে। সম্পত্তি বিক্রি না করা পর্যন্ত সেই সম্পদের আর্থিক সুবিধা বাস্তবে পাওয়া যায় না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে কম সম্পদ বৈষম্যের দেশ স্লোভাকিয়া। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়।
প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, কোনো দেশ একই সঙ্গে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যপূর্ণ হতে পারে। আবার এমন দেশও থাকতে পারে, যেখানে সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও বণ্টন অনেক বেশি সমতাভিত্তিক। তাই একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্র বুঝতে সম্পদের পরিমাণের পাশাপাশি তার বণ্টনের ধরনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।