বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহ—অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা হচ্ছে তাদের। আগামী ৭ জুলাই আটলান্টায় শেষ ষোলোর মহারণে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিশর। তবে ম্যাচটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়, কোটি ফুটবলভক্তের কাছে এটি মেসি-সালাহ দ্বৈরথেরও সবচেয়ে প্রতীক্ষিত অধ্যায়।
এর আগে দুজনের দেখা হয়েছে মাত্র দুটি প্রীতি ম্যাচে। সেই দুই লড়াইয়ের একটিতে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, অন্যটি শেষ হয়েছিল ড্রয়ে। মেসি দুই ম্যাচে দুটি গোল করলেও সালাহ গোলের দেখা পাননি।
বিশ্বকাপে মেসির বিপক্ষে খেলার ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছিলেন সালাহ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের বিপক্ষে মাঠে নামা হবে তার জন্য স্বপ্নপূরণের মতো। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে দুই তারকাই রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। ৩৮ বছর বয়সেও মেসি গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও বসেছেন। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে এখনও তিনিই সবচেয়ে বড় ভরসা।
অন্যদিকে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে ইতিহাস গড়েছে মিশর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া দলটি শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। সেই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিভারপুল তারকা, যিনি ক্লাব ফুটবলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবার জাতীয় দলেও ধরে রেখেছেন।
ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ দেখিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, “সালাহ বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন। তার বিপক্ষে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।”
অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বে এগিয়ে মেসি, আর গতি, ফিনিশিং ও কাউন্টার অ্যাটাকে ভয়ংকর সালাহ। তাই কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও মিশরকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এখন দেখার অপেক্ষা—বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত এই তারকা লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসেন।

মন্তব্য করুন