তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অর্থনীতি-বান্ধব রাজনৈতিক পরিবেশ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বাণিজ্য প্রতিযোগিতা বাড়ানো সম্ভব নয়। তাত্ত্বিক আলোচনা বাস্তব ফল দিতে হলে কার্যকর রাজনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে। সে কারণে সরকার উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে এই অতিরিক্ত সময় দেশের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানো যায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আগামী তিন বছরে নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জাতিসংঘের ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’-তে উল্লেখিত ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে দেশের বাস্তবতায় যেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানবসম্পদকে দক্ষ করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে গঠিত বর্তমান সরকারের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণে রাজনীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা।
কর্মশালায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাসও দেন তথ্যমন্ত্রী।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ। কর্মশালায় অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন