জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনস (ডিওপি)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আহ্বান জানান।

সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অবদান, দ্রুত নিয়োজন সক্ষমতা (র‌্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট), কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে বাংলাদেশি নারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) প্রত্যাহারের পর নতুন মিশনে প্রতিস্থাপন, জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী পদে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের নিয়োগ, ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) মোতায়েন এবং ভবিষ্যৎ বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার। এ পর্যন্ত ২৬টি দেশের ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

তিনি জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য দুটি ফর্মড পুলিশ ইউনিটের র‌্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট লেভেল (আরডিএল) যাচাইকরণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে জাতিসংঘ পুলিশ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। ইউনিট দুটি আধুনিক সরঞ্জাম, নিজস্ব রসদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশিক্ষিত জনবলে সুসজ্জিত উল্লেখ করে তিনি যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ডিওপি-এর সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে গত বছরের অক্টোবরে স্বল্প নোটিশে ১৮০ সদস্যের বাংলাদেশি নারী এফপিইউ প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অন্যান্য মিশনে বিভিন্ন দেশের ইউনিট আনুপাতিকভাবে কমানো হলেও কঙ্গোতে শুধুমাত্র বাংলাদেশের পুরো ইউনিট প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সমতা ও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দক্ষিণ সুদান, আবেয়ি অথবা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নতুন একটি বাংলাদেশি এফপিইউ মোতায়েনের অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনের নীতি-নির্ধারণী ও বিশেষায়িত পেশাদার পদে (পি-লেভেল ও ডি-লেভেল) আরও বেশি বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ দক্ষ ও যোগ্য নারী-পুরুষ কর্মকর্তা পাঠাতে প্রস্তুত।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সিলেকশন অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম (এসএএটি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে এখনো ৮৫ জন নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশেষ করে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গোতে ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসারদের দ্রুত মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে পরবর্তী এসএএটি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতির বিষয়টি জানিয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

জবাবে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের বীরত্ব, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি কঙ্গো মিশনে ভারসাম্য ও সমতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন ও বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনে জাতিসংঘের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।