আধুনিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে বীমা খাতকে একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী আইনি কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করতে বীমা খাতের সংস্কার অপরিহার্য।

মঙ্গলবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি-এর ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় শুধু বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের ভিত্তিতে লেনদেন পরিচালিত হতে পারে না। নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে বীমা খাতের জন্য একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বীমা কেবল একটি সেবামূলক খাত নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। একজন ব্যক্তি বা উদ্যোক্তা যখন জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন, তখন তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নতুন উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত হন। এর ফলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক গতি সৃষ্টি হয়।

বিগত সময়ের অর্থনৈতিক অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বিদেশে অর্থপাচার, কর ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিপুল অর্থ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলোর সংস্কারে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার আগেই বিভিন্ন খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছিল। এখন সেগুলোর কার্যকর সংস্কার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

তথ্যমন্ত্রী বীমা খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বীমা শিল্পকে আরও বিস্তৃত, আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ এমপি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাজিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বীমা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।