আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকে এসব রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।
তিনি জানান, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।
ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার সুবিধার্থে দেশকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল। পরিকল্পনা অনুযায়ী হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই ভোটগ্রহণ শুরু হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে অনিশ্চয়তা ছিল, সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নাও হতে পারে। তবে সরকার শুরু থেকেই চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন শুরুর বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া বিবেচনায় অধিকাংশ নির্বাচন শুষ্ক মৌসুমে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সে কারণে অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। নির্বাচন শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগে। সে হিসেবে আগামী অক্টোবরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে ২০২৭ সালের অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।

মন্তব্য করুন