https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
স্পেনের জার্সিতে আবারও নিজের প্রভাবের ছাপ রাখলেন লামিনে ইয়ামাল। বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা ম্যাচে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট—কোনোটিই ছিল না তাঁর নামের পাশে। তবুও ম্যাচ শেষে ফিফা তাঁকেই নির্বাচিত করেছে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’।
প্রথম দেখায় অনেকের কাছেই সিদ্ধান্তটি বিস্ময়কর মনে হতে পারে। তবে ম্যাচের পরিসংখ্যান ও মাঠে তাঁর সামগ্রিক প্রভাব বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কেন ম্যাচসেরার পুরস্কারটি ইয়ামালের হাতেই উঠেছে।
১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার পুরো ম্যাচজুড়ে ছিলেন স্পেনের আক্রমণের প্রাণভোমরা। তিনি ছয়টি শট নেন, যার মধ্যে দুটি লক্ষ্যভেদী ছিল এবং দুটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ব্লক করে। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে পাঁচবার বল স্পর্শ করেন এবং নিজের গতিময় খেলায় একাধিকবার বেলজিয়ামের রক্ষণকে চাপে ফেলেন।
সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল তাঁর ড্রিবলিং। আটবার ড্রিবলের চেষ্টা করে চারবার সফল হন ইয়ামাল। বারবার একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি স্পেনের আক্রমণে গতি আনেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন।
পাসিংয়েও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ম্যাচে ৪৬টি পাস দিয়ে ৩৯টি সফল করেন। প্রতিপক্ষের বক্সে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পাস, তিনটি ক্রস এবং দুটি কর্নার নেন। শেষ তৃতীয়াংশে তাঁর সৃজনশীল পাসগুলো থেকেই স্পেন একাধিক আক্রমণ গড়ে তোলে।
শুধু আক্রমণেই নয়, রক্ষণেও দায়িত্বশীল ছিলেন এই তরুণ। একটি ট্যাকল, একটি ইন্টারসেপশন এবং দুটি বল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে দলের রক্ষণাত্মক কাজেও অবদান রাখেন তিনি।
ম্যাচে স্পেনের হয়ে গোল করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলারে। তবে গোলদাতারা স্কোরশিটে নাম তুললেও পুরো ম্যাচে ইয়ামালের মতো ধারাবাহিক প্রভাব রাখতে পারেননি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে ম্যাচসেরা নির্ধারণ শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের ওপর নির্ভর করে না। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা, প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি এবং সার্বিক পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। সেই দিক থেকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে লামিনে ইয়ামালের পারফরম্যান্সই ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী, আর সে কারণেই গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের এই তরুণ তারকা।