https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন, তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। যদিও এ বিষয়ে সরকার বা ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি তোলে। তবে সাংবিধানিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সে দাবি গ্রহণ করেনি। সে সময় বিএনপিও রাষ্ট্রপতি অপসারণের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। ফলে বিষয়টি ধীরে ধীরে আলোচনার বাইরে চলে যায়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শপথ নেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণের আলোচনা একাধিকবার সামনে এলেও তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পরও রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি অংশ নিয়েছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা আবারও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বিএনপি কি দলীয় কাউকে রাষ্ট্রপতি করবে, নাকি দলনিরপেক্ষ কোনো ব্যক্তিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে দলটির ভেতরে অভিজ্ঞ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এক জ্যেষ্ঠ সচিবের নামও বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। পদটি শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। মৃত্যু, পদত্যাগ, শারীরিক অক্ষমতা বা অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি চাইলে শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য যেকোনো কারণে পদত্যাগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে এর বেশি কিছু তার জানা নেই বলেও জানান তিনি।