ঢাকা
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাণঘাতী ইবোলার টিকা আসতে সময় লাগতে পারে ৯ মাস : ডব্লিউএইচও

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬   ৩৬ বার পঠিত
প্রাণঘাতী ইবোলার টিকা আসতে সময় লাগতে পারে ৯ মাস : ডব্লিউএইচও

ছবি: -সংগৃহীত

ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ ইবোলা মোকাবিলায় কার্যকর টিকা পেতে আরও প্রায় নয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইবোলার বুন্ডিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে দুটি সম্ভাব্য টিকা তৈরির কাজ চলছে, তবে সেগুলো এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

জেনেভায় ডব্লিউএইচও সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টিকা সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক ধাপ শেষ করতে অন্তত নয় মাস সময় লাগতে পারে। এর অর্থ হলো, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সময় বিশ্বের হাতে এখনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক অস্ত্র পুরোপুরি প্রস্তুত নেই।

বর্তমানে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-তে ইবোলার সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও প্রায় ৬০০ জনের মধ্যে ইবোলাসদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে ইবোলা ভাইরাস পাওয়া গেছে। আক্রান্তরা মূলত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি ও উত্তর কিভু প্রদেশের বাসিন্দা।

প্রতিবেশী উগান্ডা-তেও ইতোমধ্যে দুইজনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। তারা রাজধানী কামপালার বাসিন্দা। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, সীমান্ত অতিক্রম করে ভাইরাসটি আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় গত ১৭ মে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুতর হলেও এটি এখনো বৈশ্বিক মহামারি নয়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহায়তাও শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্য কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় প্রায় ২ কোটি পাউন্ড সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থ স্বাস্থ্যকর্মীদের ভাতা, রোগ নজরদারি এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

ইবোলা বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ হিসেবে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এখন পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে জাইর এবং বুন্ডিবুগিও প্রজাতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। বর্তমানে কঙ্গো ও উগান্ডায় যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, সেটি বুন্ডিবুগিও ধরনের বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

এই ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র কিংবা ব্যবহৃত কাপড় ও সুঁই থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি মৃতদেহের সংস্পর্শ থেকেও ভাইরাসটি ছড়াতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলখেকো বাদুড় ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক। এছাড়া শিম্পাঞ্জি, গরিলা ও অন্যান্য বন্য প্রাণী থেকেও মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

September 2026
SMTWTFS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930