https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করলে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা এগিয়ে নেবে না।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ট্রাম্প বলেন, “আব্রাহাম অ্যাকর্ড ইতোমধ্যেই সফল হয়েছে। এখন সৌদি আরবেরও এতে যোগ দেওয়ার সময় এসেছে।”
এর একদিন আগে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে পরে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, এ চুক্তির অগ্রগতি নির্ভর করবে সৌদি আরবের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এ বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আলোচনা না হলেও বিষয়টি গোপন ছিল না এবং সৌদি আরবও এ অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিল।
এদিকে, ট্রাম্পের নতুন শর্ত নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি আরব। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। বিপরীতে, ইসরায়েলের বর্তমান সরকার এ অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছে।
ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, এই চুক্তি বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মিত্রদের নিরাপত্তা জোরদারের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
হোয়াইট হাউস চুক্তিটিকে কয়েক দশকব্যাপী বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি অনুমোদনের জন্য এখন মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে।
যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ করা হয়নি, কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি—এতে সৌদি আরবের নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে ট্রাম্প পরে বলেন, কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রস্তাবিত ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর মাধ্যমে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা, আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।