https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পরিচালিত ‘অপারেশন নাসর-২’-এ ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত এবং ব্যাপক সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে এ দাবির সত্যতা যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেনি।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর চলতি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই বলে গত ৮ জুলাই ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত মধ্যপ্রাচ্যের আটটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ১৫ দিনব্যাপী ‘অপারেশন নাসর-২’ পরিচালনা করা হয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী, হামলায় ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন, ৮টি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান, ৪টি ভারী সামরিক হেলিকপ্টার, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান এবং একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, অভিযানে ৭টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ৬টি প্যাট্রিয়ট রাডার ইউনিট, ৮টি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র রাডার, ৫টি দূরপাল্লার রাডার স্থাপনা, একাধিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নজরদারি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
সামরিক অবকাঠামোর মধ্যে ৬টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হ্যাঙ্গার, ৫টি যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, ৪টি সুরক্ষিত বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, ৬টি বিমান পার্কিং ও ফ্লাইট র্যাম্প, ৪টি হিমার্স রকেট লঞ্চার, ৪টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ১৭টি অস্ত্রভাণ্ডার, ১২টি জ্বালানি ট্যাংক, ৬টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার, ৬টি বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, দুটি সিগন্যাল গোয়েন্দা যোগাযোগ কেন্দ্র, একটি ডেটা ইন্টেলিজেন্স হাব, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসেসিং সেন্টার, একটি অ্যামাজন ডেটা নোড এবং একটি চালকবিহীন নৌযান সংরক্ষণাগার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্রের ভাষ্য, অভিযানে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা আরও বেশি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতাহতের তথ্যকে ‘ভুল’ দাবি করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটিগুলো উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান।
তবে ইরানের এসব দাবি এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ২০০ সেনা নিহত বা উল্লেখিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।