https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ) কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘন করলে তা সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।
সম্প্রতি মাউশির সহকারী পরিচালক কামরুন্নাহার রীমা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা পুনরায় জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অসচেতনতা বা সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করলে শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই ব্যাহত হয় না, অনেক ক্ষেত্রে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এ নির্দেশনা মাউশির অধীন সব সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ (টিটিসি), বেসরকারি কলেজ, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাপ্তরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো দাপ্তরিক পেজ বা অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ছবি ব্যবহার করা যাবে না। অ্যাকাউন্টের নাম ও লোগো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে হতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং নিয়মিত তা পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পেজকে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; বরং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের লিংক সেখানে যুক্ত রাখতে হবে।
ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া কোনো পোস্ট, মন্তব্য, লাইক বা শেয়ারের মাধ্যমে যেন রাষ্ট্র, সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার বা সেখান থেকে প্রকাশিত ক্ষতিকর কনটেন্টের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় চেতনার পরিপন্থি তথ্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন লেখা, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা রাজনৈতিক আলোচনা, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা কোনো সম্প্রদায়কে হেয় করে এমন বক্তব্য, রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির মানহানিকর মন্তব্য, লিঙ্গবৈষম্যমূলক বক্তব্য, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন অসত্য তথ্য এবং ভিত্তিহীন, মিথ্যা, অশ্লীল বা আত্মপ্রচারণামূলক পোস্ট প্রকাশ বা প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মাউশি আরও জানিয়েছে, তাদের অধীন প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি তিন মাস অন্তর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করতে হবে। নির্দেশিকার কোনো বিষয়ে ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন হলে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার ইউনিটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।