https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক ডাকছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ, বহিঃসীমান্তের নিরাপত্তা এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনা হবে।
রোববার (২ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশের পর ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইইউর বহিঃসীমান্ত আরও শক্তিশালী করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে ইতালি, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সমর্থনে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। স্পেন এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও বেআইনি’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুলাই সেউতায় প্রবেশ করা অধিকাংশ অভিবাসী ইতোমধ্যে ফিরে গেছেন। তবে সীমান্ত পারাপারের এই আকস্মিক ঢলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৭ জনে পৌঁছেছে।
ইইউ নেতাদের যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবৈধভাবে প্রবেশ করা সম্ভব—এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়লে তা আরও অনিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে, যৌথ অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা দুর্বল করবে এবং এর প্রভাব সব সদস্য রাষ্ট্রের ওপর পড়বে।
বর্তমানে আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করছে। ইইউ প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনকে পাঠানো ওই চিঠিতে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও ফিনল্যান্ডসহ ২২ জন ইউরোপীয় নেতা স্বাক্ষর করেছেন।
অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনকে পাঠানো পৃথক এক চিঠিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কয়েকটি ইউরোপীয় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে ‘গুরুতর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে স্পেন সীমান্ত পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে এবং ইউরোপমুখী অবৈধ অনুপ্রবেশ কার্যকরভাবে প্রতিহত করেছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা জানান, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। জলপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নতুন প্রতিবন্ধক নির্মাণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অধিকাংশ অভিবাসী সেউতা ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে।
এদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থার কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড ও পর্তুগালও সীমান্তে তল্লাশি আরও জোরদারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।