https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড বা সামরিক সুবিধা ব্যবহার করতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরান বলছে, এ ধরনের সহায়তা আন্তর্জাতিক আইন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর দায়বদ্ধতার পরিপন্থী হবে।
শনিবার (২ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড বা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত রাখা সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর ‘আইনি, নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সামরিক স্থাপনা, বেসামরিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করবে বলেও জানিয়েছে তেহরান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আরাগচির দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের ‘দৃঢ় জবাব’ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইরানের এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ইরাক সরকার জানিয়েছে, দেশটির ভূখণ্ড বা আঞ্চলিক সীমারেখার মধ্যে প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর চেষ্টায় রয়েছে।