https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনে দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণে বিঘ্নের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো অনলাইনে নিরাপত্তা সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।
এই সতর্কতা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে এবং আলোচনায় বিভ্রান্তিকর অবস্থান নিচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্সের পরামর্শে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং অন্যান্য ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত অঞ্চল ত্যাগের পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বার্তায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স এখনো স্বাভাবিক ফ্লাইট সূচি পুনরায় চালু করেনি। কিছু সংস্থা বিভিন্ন রুটে ফ্লাইটও বাতিল করেছে। এ কারণে ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়মিত পর্যালোচনা এবং বিমান সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ওই অঞ্চল হয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশভিত্তিক সতর্কবার্তায় জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার সামরিক স্থাপনাগুলোর আশপাশ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে অবস্থানরত নাগরিকদের নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান আগে থেকেই জেনে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।