পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কোরবানি, ত্যাগ, দান ও ভ্রাতৃত্ববোধের এই উৎসব বিশ্বজুড়ে একই ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করলেও দেশভেদে এর উদ্যাপনে দেখা যায় ভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছাপ। কোথাও ঐতিহ্যবাহী খাবার, কোথাও বিশেষ পোশাক, আবার কোথাও লোকজ আয়োজন ঈদকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদুল আজহার অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও বিশেষ খাবার। ইয়েমেন, সিরিয়া, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে ঈদ উপলক্ষে ঘরে ঘরে তৈরি হয় নানা ধরনের মিষ্টান্ন।
বাহরাইনে ঈদের সময় ঐতিহ্যবাহী ঢিলেঢালা পোশাক ‘জালাবিয়া’র চাহিদা বেড়ে যায়। লিবিয়ায় অশ্বারোহীরা নতুন পাগড়ি ও জোব্বা পরে উৎসবে অংশ নেন। জেরুজালেমে শিশুরা নতুন পোশাক পরে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করে।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ঈদের আগের রাত থেকেই মেহেদি পরার রীতি খুব জনপ্রিয়। ছোট-বড় সবাই নতুন পোশাক পরে ঈদের নামাজে অংশ নেয় এবং কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে।
ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ উপলক্ষে মশাল শোভাযাত্রা বিশেষ আকর্ষণ। সেখানে ‘গুনুনগান’ নামে ফল ও সবজি দিয়ে তৈরি বিশাল কাঠামো ঈদের প্রতীক হিসেবে প্রদর্শন করা হয়।
উজবেকিস্তানে ‘কুরবান হাইত’ উপলক্ষে পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও ‘প্লোভ’ রান্না করে। কাজাখস্তানে ঈদকে বলা হয় ‘কুরবান আইত’, যেখানে খেলাধুলা ও সামাজিক আয়োজন উৎসবের অংশ হয়ে ওঠে।
নাইজেরিয়া, কেনিয়া, মাদাগাস্কারসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ঈদুল আজহা দানশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে উদ্যাপিত হয়। নাইজেরিয়ায় ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়।
মাদাগাস্কারে ‘জেবু’ নামের বিশেষ গবাদিপশু কোরবানি দেওয়া হয়, যা সম্পদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। সেখানে ঈদের খাবারের মধ্যে থাকে ভাত, মাংস ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন।
কেনিয়ায় ঈদের দিন পার্ক ও খোলা জায়গাগুলো শিশুদের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুসলিম অভিবাসী ও শরণার্থীরা নিজ নিজ সংস্কৃতির মিশেলে ঈদ উদ্যাপন করেন। ঈদের নামাজে বহু সংস্কৃতির মানুষের সমাগম ঘটে।
অনেক জায়গায় ঈদ মেলা, শিশুদের বিনোদন, খাবার বিতরণ ও কমিউনিটি আয়োজন হয়। ইউরোপে শরণার্থী পরিবারগুলো একসঙ্গে রান্না ও খাবার ভাগাভাগির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উদ্যাপন করে।
অস্ট্রেলিয়ায় ঈদ উপলক্ষে বিপণিবিতান ও রাস্তাঘাট আলোকসজ্জায় সাজানো হয়। মুসলিম পরিবারগুলো নতুন পোশাক কেনেন, নামাজ আদায় করেন এবং পারিবারিক ভোজের আয়োজন করেন।