মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে আজ বুধবার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য ঘোষিত এই মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার, বেসরকারি ঋণপ্রবাহ, ব্যাংকিং খাতের তারল্য এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব থাকবে।

বুধবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। এতে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। জুনে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন। অথচ ডিসেম্বর শেষে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহারের কারণে উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার আগ্রহ কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকলেও উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না।

এদিকে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, আগস্টে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত ১০ মাসের মধ্যে আগস্টের হার সর্বনিম্ন হলেও ৮ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি এখনো মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করছে।

বিনিয়োগ বাড়াতে গত ২ আগস্ট নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছিল। এরপরও ঋণপ্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। ফলে নতুন মুদ্রানীতিতে সুদহার অপরিবর্তিত থাকবে, নাকি আরও সমন্বয় করা হবে, সেদিকে নজর রয়েছে ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীদের।