নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দুর্ঘটনার সময় আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার সোহেল রানা (৩৮)। আর বাসের চালক ও তাঁর সহকারী পেছনের আসনে ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন দুর্ঘটনায় আহত একাধিক যাত্রী।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহত সোহেল রানার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে তিনি বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে এর আগে তিনি বাস চালাতেন বলেও দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী ডলি বেগম।

দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিরতি দেওয়া হয়। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে বাসটি আবার রওনা হলে চালকের আসনে বসেন সুপারভাইজার সোহেল রানা।

আহত যাত্রী রমজান আলী (২৮) জানান, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাসটি ঈশ্বরদীতে পৌঁছায়। হোটেলে বিরতি শেষে চালক নিজের আসন ছেড়ে পেছনের আসনে গিয়ে ঘুমাতে যান। তাঁর সহকারীও সেখানে ঘুমাচ্ছিলেন। এরপর সুপারভাইজার বাস চালাতে শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বনপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

একই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া দুই যাত্রী ইয়াকুব আলী ও আব্দুস সালামও দুর্ঘটনার সময় সুপারভাইজারকে বাস চালাতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, সংঘর্ষে বাসচালক নিহত হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় কে বাস চালাচ্ছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তদন্তেই দুর্ঘটনার বিস্তারিত চিত্র উঠে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।