সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং এ বিষয়ে পরিবার ও বাংলাদেশ দূতাবাসকে আগে না জানানোর অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শরিফুল হাসান বলেন, নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোকের বিষয় নয়; এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে এনেছে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ নজরুল ইসলাম ২০২২ সালের শেষ দিকে ঋণ করে সৌদি আরবে যান। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তাঁর মাসিক বেতন ছিল ৮০০ সৌদি রিয়াল।

নজরুলের স্বজনদের বরাতে শরিফুল হাসান জানান, সৌদি আরবে কাজ করার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধ হয়েছিল। পরিবারের ধারণা, ওই বিরোধের সঙ্গে পরবর্তী ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শরিফুল হাসানের পোস্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে নজরুলকে আটক করা হয়। পরে গত ১৪ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর আসে। মৃত্যুদণ্ডের আগে পরিবার ও দূতাবাসকে অবহিত না করার অভিযোগ তুলে তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, দূতাবাসের কাছে পাঠানো একটি তালিকায় নজরুলের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত সাজা এবং আরেক বাংলাদেশি নারী সুইটি আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের উল্লেখ ছিল। তবে সাজার বিস্তারিত তথ্য সেখানে ছিল না বলে তাঁর দাবি।

শরিফুল হাসান প্রশ্ন তোলেন, মামলার অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও দণ্ডের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া কীভাবে ঘটনার যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব। তিনি কনস্যুলার সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

নজরুলের মা রহিমা বেগমের শেষবারের মতো ছেলের মরদেহ দেখার আকুতির কথা উল্লেখ করে তিনি প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তবে মৃত্যুদণ্ডের মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি, সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।