ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্ধারিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী এ আদেশ কার্যকর করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, অবস্থান ও পিকেটিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া স্লোগান, বক্তৃতা এবং বিভিন্ন ধরনের বস্তু বহনের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ১১টায় যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, রাজ্যসভার সদস্য মনোজ ঝা ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি।
আয়োজকদের অভিযোগের মূল বিষয় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রম। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বিক্ষোভে প্রায় ৩ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতির আশঙ্কা থাকায় যন্তর মন্তরসহ নয়াদিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতে বসানো হয়েছে ব্যারিকেডও। পাশাপাশি যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লির ১১টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। ফলে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও জনচলাচল—দুই ক্ষেত্রেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।


মন্তব্য করুন