যুক্তরাষ্ট্রে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশপ্রাপ্ত হাজার হাজার অভিবাসন বন্দির অবস্থান প্রকাশ না করার নতুন নীতি বন্ধে হস্তক্ষেপ করতে জাতিসংঘের কাছে আবেদন জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একটি জোট।

বুধবার জাতিসংঘের ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’-এর কাছে আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। এতে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগ—আইসিই—গত ১৫ সেপ্টেম্বর তাদের অনলাইন ডিটেইনি লোকেটার সিস্টেম থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশপ্রাপ্ত বন্দিদের নাম সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। এর ফলে প্রায় ১৬ হাজার বন্দির অবস্থান অনলাইনে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মানবাধিকার ও অভিবাসন আইনজীবীদের অভিযোগ, এই পরিবর্তনের ফলে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আইনজীবীদের যোগাযোগ এবং জরুরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও তাদের স্বজন কোথায় আটক আছেন, তা জানতে সমস্যায় পড়ছেন।

৩০টিরও বেশি সংগঠনের জোটটি এই নীতিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে। তারা জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের কাছে আটক ব্যক্তিদের অবস্থান দ্রুত প্রকাশ এবং বন্দিদের স্থানান্তরের আগে তাদের আইনজীবীদের আগাম জানানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

আবেদনকারী সংগঠনগুলোর অন্যতম রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের আইনজীবী সারাহ ডেকার বলেন, বন্দিদের অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছতা না থাকলে জবাবদিহিতাও বাধাগ্রস্ত হয়। তাঁর দাবি, আটক ব্যক্তিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য গোপন রাখার ফলে তারা বাইরের আইনি সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন।

অন্যদিকে, আইসিই ও এর মূল সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই প্রতিনিধি পরিষদের ৪৫ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্যও আইসিইর কাছে বন্দিদের নাম অনলাইন লোকেটার সিস্টেমে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, তথ্য গোপন রাখার এই ব্যবস্থা বন্দিদের আইনি অধিকার এবং মার্কিন বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ রয়েছে। তবে চূড়ান্ত আদেশ থাকার পরও কিছু ক্ষেত্রে আটকাদেশ বা বহিষ্কারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকে। এ কারণে আইনজীবীরা বলছেন, আটক ব্যক্তির অবস্থান জানা না গেলে জরুরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের কাছে দেওয়া আবেদনে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাসে আটক এক মা ও তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ের ঘটনাও রয়েছে। আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাদের অবস্থান জানাতে আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন হয়েছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারী সংগঠনগুলো চায়, আটক হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির অবস্থান প্রকাশ্যে তালিকাভুক্ত করা এবং কোনো বন্দিকে স্থানান্তরের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে তার আইনজীবীকে জানানোর ব্যবস্থা করা হোক।

জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস ১৯৮০ সালে গঠিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জোরপূর্বক বা অনিচ্ছাকৃত গুমের অভিযোগ নিয়ে কাজ করে। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা ব্যক্তির অবস্থান বা ভাগ্য গোপন করার বিষয়টি জোরপূর্বক গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে পারে।