জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। দেশটির হিমবাহ পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গ্ল্যামোস (GLAMOS) জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে দেশটির হিমবাহগুলোর মোট বরফের প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়ে গেছে। ২০২৬ সালে গলেছে আরও ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বরফ, যা এক বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষয়।
গ্ল্যামোস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হিমবাহ গলার হার আগের যেকোনো পাঁচ বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে যেখানে হিমবাহের আয়তন ১০ শতাংশ কমেছিল, সেখানে গত ১০ বছরেই কমেছে ২৭ শতাংশ।
গ্ল্যামোস-এর প্রধান ম্যাথিয়াস হুস ২০২৬ সালকে ‘বিপর্যয়কর বছর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রায় ৩ হাজার মিটার উচ্চতায় থাকা স্কেক্স রুজ হিমবাহ পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, এই হিমবাহ সম্ভবত আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।
সুইজারল্যান্ডের আবহাওয়া ও জলবায়ু দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৬৪ সালে তাপমাত্রা রেকর্ড শুরু হওয়ার পর ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্ট ছিল দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ তিন মাস। অতিরিক্ত তাপ ও কম তুষারপাতের কারণে হিমবাহের সুরক্ষামূলক বরফের স্তরও দ্রুত সরে গেছে।
এ বছর কয়েকটি হিমবাহে বরফের গড় পুরুত্ব ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ মিটার কমেছে। উন্মুক্ত অংশে কোথাও কোথাও কমেছে ১০ মিটার পর্যন্ত। রোন ও আলেচসহ চারটি প্রধান হিমবাহে রেকর্ড পরিমাণ বরফ গলেছে।
তবে ২০২৬ সালের ক্ষয় ২০২২ সালের রেকর্ড ছাড়ায়নি। গবেষকদের মতে, চলতি বছর গ্রীষ্মের আগে তুলনামূলক বেশি তুষারপাত এবং সাহারা থেকে কম ধূলিকণা জমার কারণে কিছুটা বরফ রক্ষা পেয়েছে।
হিমবাহ সংকুচিত হওয়ায় ভবিষ্যতে পানির প্রাপ্যতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গ্ল্যামোস-এর হিসাবে, শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিমবাহ গলে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়ে গেছে।

মন্তব্য করুন