ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের পারফরম্যান্সের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। তার মতে, র‍্যাঙ্কিং, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভিজ্ঞতা ও খেলার গতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দলগুলোর তুলনায় এখনও পিছিয়ে বাংলাদেশ।

জাকার্তায় ডুলি বলেন, বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং ১৮১, যেখানে ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দলের অবস্থান অনেক ওপরে। তার মতে, র‍্যাঙ্কিংয়ের এই পার্থক্য দলগুলোর সামগ্রিক মানেরও প্রতিফলন ঘটায়।

ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল হজম করে বাংলাদেশ। এরপর ধীরে ধীরে রক্ষণভাগের নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে দল। বিশেষ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং খেলার গতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়।

ডুলি বলেন, শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মাঠে নামলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি কমে যায়। অথচ আধুনিক ফুটবলে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে বল নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ কোচ আরও বলেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার ঘরোয়া লিগ বাংলাদেশের তুলনায় বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এসব দেশের খেলোয়াড়েরা সারা বছর অনুশীলন ও নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে থাকেন। ইন্দোনেশিয়ার কয়েকজন খেলোয়াড় ইউরোপের বিভিন্ন লিগেও খেলছেন, যা তাদের অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে জয় পেলেই প্রকৃত উন্নতি নিশ্চিত হয় না বলেও মন্তব্য করেন ডুলি। তার মতে, দ্রুতগতির ও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললেই নিজেদের ঘাটতিগুলো আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ৬-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে দীর্ঘ সময় আর গোল না খেলেও যোগ করা সময়ের শেষ সাত মিনিটে আরও তিন গোল হজম করে দলটি।

ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে ডুলি জানান, ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের অবস্থান ও ম্যাচের ভুলগুলো দেখানো হচ্ছে। এসব ভুল শুধরে ধাপে ধাপে উন্নতির চেষ্টা করবে দল। তার ভাষায়, উন্নতি রাতারাতি আসে না; এই টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই সামনে এগোতে হবে।