যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালে এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
তিনজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের মার্কিন স্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী দেশগুলোর কিছু স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পর সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইরান বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে সীমিত হামলার জবাব সীমিত রাখার পরিবর্তে সংঘাতের পরিধি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হতে পারে।
এদিকে লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতেই এ প্রস্তুতি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ইরান সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং তেলবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের কথা জানালেও কাতারের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি জবাব তেহরানে পৌঁছেছে।
তবে পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনো ভিন্ন। ওয়াশিংটন আলোচনায় এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও ইরান নিজেদের শর্ত পূরণের আগে এতে রাজি নয়। ফলে পরোক্ষ আলোচনা চললেও সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক ইরানি কর্মকর্তা।
দীর্ঘ সাত মাসের সংঘাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। একই সময়ে সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক সংকট ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও চাপ বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মত।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, যুদ্ধ চলাকালে ইরানে দমন-পীড়ন জোরদার হয়েছে এবং মে মাসের পর থেকে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য করুন