গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে আবারও ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ টানানো হয়। মঙ্গলবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে নোটিশ দেখতে পান শ্রমিকেরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তিনি জানান, ছাঁটাইয়ের খবর জানার পর কারখানাগুলোর সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ছাঁটাই হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে গত ৬ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো লে-অফে রয়েছে। এরপর কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করা হবে।

এদিকে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কর্মচারীর চাকরি হারানোর ঘটনায় কারখানা এলাকাকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে শিল্প পুলিশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।

দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং লে-অফের মেয়াদ বারবার বাড়ানোর পর নতুন করে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে কেয়া গ্রুপের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।