লোডশেডিংয়ের সময় বাসা কিংবা অফিসের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে আইপিএস ও ইউপিএসের ব্যবহার বাড়ছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক যন্ত্রটি বেছে নিতে না পারলে অতিরিক্ত খরচ করেও প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই কেনার আগে দুই যন্ত্রের কাজ, সুবিধা ও পার্থক্য জানা জরুরি।

আইপিএস সাধারণত বাসাবাড়িতে একাধিক বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাটারির শক্তি দিয়ে ফ্যান, বাতি ও টেলিভিশনের মতো যন্ত্র চালু রাখা যায়। ব্যাটারির ক্ষমতা বেশি হলে এবং বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকলে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ পাওয়া সম্ভব।

তবে একসঙ্গে বেশি যন্ত্র চালালে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হবে। তাই আইপিএস কেনার আগে কতটি যন্ত্র চালাতে হবে এবং কতক্ষণ ব্যাকআপ প্রয়োজন, তা হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ।

ইউপিএসের পূর্ণরূপ আনইন্টারাপ্টিবল পাওয়ার সাপ্লাই। বিদ্যুৎ চলে গেলে এটি দ্রুত ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ফলে ডেস্কটপ কম্পিউটার, রাউটার ও অন্যান্য সংবেদনশীল যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

বিশেষ করে অফিসের কাজ, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সংরক্ষণ কিংবা কম্পিউটারে কাজ করার সময় ইউপিএস কার্যকর। এটি কাজ সংরক্ষণ করে কম্পিউটার নিরাপদে বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেয়। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার জন্য সাধারণ ইউপিএস সব ক্ষেত্রে উপযোগী নয়।

আইপিএস বা ইউপিএস কেনার সময় যন্ত্রের ক্ষমতা, ব্যাটারির আকার, সংযুক্ত ডিভাইসের বিদ্যুৎ চাহিদা এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ সময় বিবেচনা করুন। পাশাপাশি বিদ্যুতের ওঠানামা থেকে সুরক্ষা, ব্যাটারির মান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা জরুরি।

আইপিএস মানেই দীর্ঘ ব্যাকআপ আর ইউপিএস মানেই স্বল্প ব্যাকআপ—বিষয়টি সব ক্ষেত্রে এমন নয়। ব্যাটারির ক্ষমতা ও যন্ত্রের নকশার ওপরও ব্যাকআপ নির্ভর করে।

বাসার ফ্যান, বাতি ও টিভি চালু রাখতে চাইলে প্রয়োজন অনুযায়ী আইপিএস বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে, কম্পিউটার ও সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক যন্ত্রকে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইউপিএস বেশি উপযোগী। কেনার আগে নিজের প্রয়োজন ও নির্দিষ্ট মডেলের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।