বাংলাদেশে নারীদের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ হার ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ ভুক্তভোগীদের মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ পুলিশের সহায়তা নিয়েছেন। পুলিশের কাছে যাওয়া নারীদের ৮১ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের মামলায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে অথবা কোনো অগ্রগতিই হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটসের যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীতে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বোঝা ও মোকাবিলা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণী ও শিক্ষার্থীরা অনলাইন সহিংসতার ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। হয়রানি, আর্থিক প্রতারণা, ছবি ও যৌন নির্যাতন, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা, সাইবার অনুসরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ভুয়া ভিডিও এ ধরনের সহিংসতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ফেসবুক ও মেসেঞ্জার এসব ঘটনার প্রধান মাধ্যম।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ করেও তাঁরা কোনো প্রতিকার পাননি। অন্যদিকে, ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী মনে করেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় সমাজে ভুক্তভোগীদেরই দোষারোপ করা হয়। ৬৭ শতাংশ নারী কখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ পাননি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, সহিংসতার কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংকট চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের করণীয় তুলে ধরাই গবেষণাটির লক্ষ্য। তিনি গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারজনিত সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান গবেষক সায়েমা চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল সচেতনতার অভাব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে নারীরা আর্থিক শোষণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

মন্তব্য করুন