পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে গড়ে উঠতে বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে জনগণকে আইনি সেবা ও নিরাপত্তা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সরকারের অগ্রাধিকার। পুলিশকে দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, যানবাহন ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে বৈষম্য এবং অন্যায়ের চর্চা থেকে দূরে থাকতে হবে। পুলিশের পোশাককে শুধু চাকরির পরিচয় হিসেবে না দেখে জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, মাদক, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক তদন্ত, তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল ফরেনসিকের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার ও পেশিশক্তির পরিবর্তে দক্ষতা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মানবিক পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণের পর বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ শেষে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জনসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

মন্তব্য করুন