ছবি: -সংগৃহীত
২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এই শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্ত হচ্ছে চারটি নতুন বিষয়— আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বাধ্যতামূলক করা হবে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাদের পড়তে হবে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ এবং ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলগুলোতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থাকলেও সেগুলো কখনোই পাঠ্যক্রমের আনুষ্ঠানিক অংশ ছিল না। নতুন শিক্ষাক্রমে এসব কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে। শুরুতে সীমিত সংখ্যক খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পর্যায়ক্রমে আরও খেলা যুক্ত করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়ের আওতায় গান, নাচ, আবৃত্তি, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন ও সাহিত্যচর্চার মতো কার্যক্রম থাকবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেত্র বেছে নিতে পারবে।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ে সরকারের লক্ষ্য হলো কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। এ জন্য দেশের স্কুলগুলোতে ধীরে ধীরে কারিগরি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা একমাত্র পথ নয়; স্কুল পর্যায়ে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে অনেকেই কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবে।
‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয়টির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচরণ এবং জীবনদক্ষতা শেখানো হবে। পাশাপাশি মানবাধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ, জাতীয় দিবসের তাৎপর্য এবং বাস্তব জীবনে ইতিবাচক আচরণের মতো বিষয়গুলোও পাঠ্যসূচির অংশ হবে। এই শিক্ষাদর্শন শুধু একটি বিষয় হিসেবে নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তোলার নীতিগত ভিত্তি হিসেবেও কাজ করবে।
সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালে সীমিত পরিসরে কিছু নতুন উদ্যোগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০২৮ সালের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বিষয়গুলো পড়ানোর জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে।
তবে নতুন যুক্ত হওয়া এসব বিষয়ে কোনো জিপিএ বা গ্রেড নির্ধারণ করা হবে না। শিক্ষার্থীদের কেবল পাস বা ফেল ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।