ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইউরোপের উদ্দেশে মার্কিন বিমানবাহিনীর চারটি সি-১৭ পরিবহন বিমান রওনা হয়েছে। এসব ফ্লাইটে থাকা সরঞ্জাম সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেনেভা সফর করতে পারেন—এমন আলোচনাও চলছে।
খসড়া সমঝোতা অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক ইস্যুতে একটি বিস্তৃত আলোচনার নতুন কাঠামো তৈরির বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।
প্রস্তাবনায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এতে কোনো অতিরিক্ত ট্রানজিট ফি ছাড়া প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার এবং এক মাসের মধ্যে যুদ্ধপূর্ব নৌচলাচল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন না করার অঙ্গীকার করবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কমাতে পদক্ষেপ নেবে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একটি পৃথক ও বিস্তারিত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এছাড়া ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে, যার মধ্যে সীমিত তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও আছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে চুক্তিটির নাম ইসলামাবাদ চুক্তি হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা বলছেন, নীতিগত ঐকমত্য হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পাওয়ায় চুক্তিকে চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।