ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে একটু প্রকৃতির কাছে গিয়ে সময় কাটানোর এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না কেউ। তবে ভ্রমণে বের হওয়ার আগে বাজেট, যাতায়াত এবং আবহাওয়ার বিষয়গুলো মাথায় রেখে পরিকল্পনা করাই ভালো।
সমুদ্র ভালোবাসেন যারা, তাদের জন্য কক্সবাজার হতে পারে প্রথম পছন্দ। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে গিয়ে উপভোগ করতে পারবেন লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতের সৌন্দর্য। পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ ধরে হিমছড়ি ও ইনানী ঘুরে আসার অভিজ্ঞতাও হবে দারুণ। ঈদের সময় এখানে প্রচুর ভিড় হয়, তাই আগে থেকেই হোটেল বুকিং দিয়ে রাখা সুবিধাজনক।
একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে চাইলে যেতে পারেন কুয়াকাটায়। পটুয়াখালীর এই সমুদ্রসৈকত তুলনামূলক শান্ত এবং কম ভিড়ের জন্য পরিচিত। গঙ্গামতির চর, লাল কাঁকড়ার দ্বীপ, ঝাউবন ও রাখাইন পল্লী পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
পাহাড় আর হ্রদের মিশেলে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে রাঙামাটি হতে পারে উপযুক্ত গন্তব্য। কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ, শুভলং ঝরনা, ঝুলন্ত সেতু ও রাজবন বিহার ভ্রমণকারীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। হ্রদের পাশে বিভিন্ন রিসোর্ট ও পর্যটন মোটেলে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে।
রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণকারীদের জন্য বান্দরবান অন্যতম সেরা জায়গা। নীলগিরি, নীলাচল, স্বর্ণ মন্দির, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র কিংবা বগালেক—সব জায়গাতেই মিলবে পাহাড় আর মেঘের অসাধারণ সৌন্দর্য। পরিবার নিয়ে থাকার জন্য এখানে ইকো-রিসোর্ট ও উন্নত মানের হোটেলেরও অভাব নেই।
প্রকৃতির গভীরে গিয়ে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে সুন্দরবন হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। করমজল, কটকা, কচিখালী বা হিরণ পয়েন্ট ঘুরে দেখতে পারেন। ভাগ্য ভালো হলে দেখা মিলতে পারে চিত্রা হরিণেরও। খুলনা বা মোংলা থেকে বিভিন্ন লঞ্চ ও ক্রুজে সুন্দরবন ভ্রমণের আয়োজন করা হয়।
সবুজ চা-বাগান আর ঝরনার সৌন্দর্য দেখতে চাইলে যেতে পারেন সিলেটে। জাফলং, বিছনাকান্দি, পান্তুমাই কিংবা হাকালুকি হাওর পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতেও যান অনেকে। কাছেই রয়েছে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র।
ঈদের ছুটিতে যেখানেই যান না কেন, আগে থেকেই যাতায়াতের টিকিট ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো। কারণ উৎসবের সময় দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় অনেক বেড়ে যায়।