https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
নির্মাণাধীন পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। শিগগিরই এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে ইপিজেডটি। এখানে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, ৬০টি প্লট ইতোমধ্যে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্লট বরাদ্দের কাজ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত কারখানা স্থাপন করে উৎপাদনে যেতে পারেন।
১ হাজার ৪৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এর বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
প্রকল্পের লক্ষ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী ইপিজেডে প্রায় ১৫৩ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে বছরে প্রায় ১৮৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির আশা করা হচ্ছে। সরাসরি প্রায় ১ লাখ এবং পরোক্ষভাবে আরও ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ইপিজেডের ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে। ৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার খালের উন্নয়নও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, অফিস ও কারখানা ভবন, আবাসিক ভবন, সীমানাপ্রাচীর, পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চলছে।
পুনর্বাসন এলাকায় ১৫৪টি বাড়ির মধ্যে প্রায় ১৩০টির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, খেলার মাঠ, কবরস্থান ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় চারটি ছয়তলা আদর্শ কারখানা ভবন, তিনটি ১০ তলা আবাসিক ভবন, তিনটি অফিস ভবন, সাবস্টেশন, হেলিপ্যাড, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে ইপিজেড এলাকায় প্রায় ৭০০টি ফলদ গাছও লাগানো হয়েছে।
এদিকে ইপিজেডের অবকাঠামো ও প্রস্তুত প্লট বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদল এলাকা পরিদর্শন করে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বেপজা।