https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা। বরিশালের রহমতপুর হয়ে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ দিয়ে ভোলাকে যুক্ত করতে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নেওয়া এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২২ আগস্ট বরিশালের রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের ঘোষণা দেন তিনি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, এই রুটে নতুন করে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। কনসালট্যান্ট নিয়োগের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কটি নির্মাণ হলে ভোলার সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে।
বর্তমানে ভোলার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। ফেরি, লঞ্চ, ট্রলার কিংবা স্পিডবোটে নদী পার হয়ে বরিশালে যেতে হয়। বৈরী আবহাওয়া, নৌযান সংকট ও ঘাটে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারীদের।
স্থানীয়দের আশা, সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চালু হলে ভোলার কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও শিল্প খাত আরও সম্প্রসারিত হবে। ইলিশ, তরমুজ, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি জেলার গ্যাসসম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
ভোলার বাসিন্দারা মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও একই সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়কের পাশাপাশি সেতু নির্মাণ করা হলে ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। মহাসড়কটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।