https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা আটটি বিমানবন্দর পর্যায়ক্রমে চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আমাদের অনেকগুলো বিমানবন্দর ইতোমধ্যে বন্ধ রয়েছে। বিগত সরকার এগুলো বন্ধ করে দিয়েছে নানা কারণে। ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, বগুড়া এগুলো একদম চালু এয়ারপোর্ট ছিল। এগুলোকে বন্ধ করা হয়েছে। এই বন্ধ বিমানবন্দরগুলোকে পুনরায় চালু করব আমরা।
দেশে পরবর্তীতে পরিকল্পনা হাতে নিয়ে নতুন কোনো বিমানবন্দর চালু হলে তা ময়মনসিংহ বিভাগে করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত।
বগুড়া বিমানবন্দরের জন্য ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ বিভিন্ন ধরনের যাত্রী ও কার্গো উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারবে। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং আইএলএস ক্যাট-৩বি প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রতিকূল আবহাওয়াতেও নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করবে।
প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। পরামর্শক নিয়োগের পর ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নকশা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪০০ থেকে ৬০০ একর অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী-এর সঙ্গে সমঝোতা নবায়ন এবং রানওয়ে সেফটি এরিয়া উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত বিমানবন্দরটি ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে সংস্কার করা হলেও যাত্রী সংকটের কারণে ১৯৮০ সালে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে বিমানবন্দরটির অবকাঠামো বেশ জরাজীর্ণ। টার্মিনাল ভবন ও কন্ট্রোল টাওয়ার কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সুবিধা এবং আধুনিক নেভিগেশন সরঞ্জামেরও ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যমান ৬ হাজার ফুট রানওয়েও আধুনিক মান অনুযায়ী উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
বিমানবন্দরটি আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণসহ নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও ছাড়াও লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে কোন বিমানবন্দর আগে চালু করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিমানবন্দর চালু হলে আঞ্চলিক অর্থনীতি, কৃষি, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে প্রকল্পগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করতে যাত্রী চাহিদা, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং টেকসই পরিচালনা ব্যবস্থা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বেবিচক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক এবং পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করেনি।
| S | M | T | W | T | F | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | ||||||
| 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 |
| 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 |
| 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 | 22 |
| 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 | 29 |
| 30 | 31 | |||||