২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে বোমা হামলার ঘটনায় ১৫ জনকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার একটি হাইকোর্ট। প্রত্যেক আসামিকে ২০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট এই রায় দেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান ও বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলে বিচারকাজ। এ সময় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

২০২১ সালে হামলার পরিকল্পনা ও এতে সহায়তার অভিযোগে ২৫ জনের বিরুদ্ধে ২৩ হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে হত্যা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র এবং বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধও ছিল।

শেষ পর্যন্ত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তারা সবাই শ্রীলঙ্কার মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। অন্যদিকে নয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচার শুরুর আগেই একজন আসামি মারা যান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামিদের আরও কঠোর শাস্তির দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, খ্রিস্টান উপাসনাকারী ও পর্যটকদের হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলাগুলো পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছিল। হামলার আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতেও হামলাকারীদের অস্ত্র হাতে দেখা যায় এবং সেখানে আইএসের তৎকালীন নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশের কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে রায় ঘোষণার পরও বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হচ্ছে, দণ্ডিত ব্যক্তিরা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন না। হামলার পেছনে আরও বড় ষড়যন্ত্র ছিল বলেও দাবি করেছে তারা।

২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার কয়েকটি গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৬৭ জন নিহত এবং প্রায় ছয় হাজার মানুষ আহত হন। হামলায় অংশ নেওয়া নয় আত্মঘাতী বোমারু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।